ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া

রাজকীয় ঐতিহ্য ঘেরা ঘোড়ার গাড়ি

আমরা চলতি কথাবার্তায় একটা জমজ শব্দ প্রায়ই বলি ‘গাড়ি-ঘোড়া’। যেমন, হরতালের দিন রাস্তাঘাট শুনসান, ‘গাড়ি-ঘোড়া’র দেখা নেই –এই রকম। কথায় ঘোড়ার আগে গাড়ি থাকলেও আসলে কিন্তু গাড়ির অনেক আগে ঘোড়া এসেছে। আমাদের সাহিত্যে সংস্কৃতিতে এই ঘোড়ার গাড়িকে দেখা হয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে। ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮৩০ সালে ঢাকায় প্রথম ঘোড়া গাড়ির প্রচলন শুরু হয়। তখন আর্মেনীয়রা ছিল এ দেশের জমিদার বংশ। তাদের বসবাস ছিল পুরান ঢাকায়। সেই সময় ব্যবসায় বাণিজ্যের সম্প্রসারণের ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার শুরু হয়েছিল।  পরে তা ঢাকায় অন্যতম প্রধান যানবাহনে পরিণত হয়।

  • স্টেজ ডেকোরেশন,
  • প্রবেশ পথ ডেকোরেশন,
  • ডালা সেট,
  • চেয়ার রিবন
  • কার/বাসর ডেকোরেশন
  • হেড টেবিল ডেকোরেশন,
  • ফটোগ্রাফী
  • ভিডিওগ্রাফী
  • ডিজে ও সাউন্ড,
  • কাওয়ালী
  • পুঁথি পাঠ
  • জারী/কবি গান
  • সাপের খেলা
  • বানরের নাচ
  • রেশমী চুড়ি
  • বায়োস্কোপ
  • রকমারি পিঠা

 

শখ যেনো হারিয়ে না যায়।

পাশ্চাত্য ধ্যানধারণার প্রভাব, নগরায়ন এবং প্রযুক্তির প্রভাবে বেড়ে উঠা প্রজন্মের কাছে একটি দিনের জন্য প্রতিকী হলেও আমাদের ঐতিহ্যের গভীরতম বিষয়কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে উম্মোচিত হোক সোনালী ঐতিহ্যের ইতিহাস। আমরা চাই প্রতিটা মানুষ শেকড়ের কাছে ফিরে আসুক। আত্নমর্যাদা বহন করুক তার প্রতিটা উৎসবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবকিছুই হারিয়ে গেলে শখ যেনো হারিয়ে না যায়।

ঘোড়া মানেই গতি

আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ঘোড়ার গাড়িকে দেখা হয় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে। আর্মেনীয়রা আঠারো ও উনিশ শতকের প্রথম দিকে ঢাকায় বসবাসকারী প্রভাবশালী সম্প্রদায় ছিল। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তারা সে সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দোকান খুলেছিল। তার মধ্যে শাঁখারীবাজারের ‘সিরকো অ্যান্ড সন্স’ অন্যতম। ওই দোকানে বিভিন্ন ইউরোপীয় জিনিসপত্র বিক্রি হতো। ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮৫৬ সালে সিরকোই প্রথম ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন করে যা তখন ‘ঠিকা গাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। এরপর আরো একশ’ বছর ঘোড়ায় টানা গাড়িই ছিল নগর ঢাকার একমাত্র দ্রুতগতির যানবাহন

রেসকোর্স ও ঘৌড়দৌড়ের ইতিহাস

কিংবদন্তির ঢাকা গ্রন্থে লিখেছেন, “ব্রিটিশ আমলে রমনা ময়দানটি ঘোড়দৌড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। প্রতি শনিবার হতো ঘোড়দৌড়। এটা ছিল একই সঙ্গে ব্রিটিশ শাসক ও সর্বস্তরের মানুষের চিত্তবিনোদনের একটি স্থান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদের এক বিবরণ থেকে জানা যায়, চার্লস ডজ রমনায় রেসকোর্স বা ঘোড়দৌড়ের মাঠ নির্মাণ করেন। ঢাকার নওয়াবদের আনুকূল্যে একসময় ঘোড়দৌড় ঢাকায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকার খ্যাতনামা আলেম মুফতি দীন মহম্মদ এক মাহফিল থেকে ঘৌড়দৌড়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এ কারণে সরকার ১৯৪৯ সালে ঘৌড়দৌড় বন্ধ করে দেয়। 

‘নস্টালজিক হেরিটেজ’রাজসিক বিহার

ঘোড়ার গাড়ি ঢাকার রাজকীয় ঐতিহ্য ঘেরাই নয়। রূপকথার গল্পতেও উল্লেখ আছে এর কথা। প্রাণের শহর ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে ঘোড়ার গাড়ি জড়িয়ে আছে শত শত বছর।  ঘোড়ার গাড়ির ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে হোটেল শেরাটনের সামনে শিল্পী মৃণাল হক ‘রাজসিক বিহার’ নামে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। রাজসিক বিহার শিরোনামের এ স্থাপত্যে দেখানো হয়েছে নবাব সলিমুল্লাহ স্ত্রী, ছেলে ও পেয়াদাসহ এমনই এক বিহারে বেরিয়েছেন শহর দেখতে।

অতীতের সহজ সরল জীবনের হাতছানি

এক সময় দেশের বড় শহর থেকে মফস্বল শহরের জমিদার ও অভিজাত শ্রেণির মানুষজন ঘোড়ার গাড়িকে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করত। প্রকৃতিকে তাড়িয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের সবটুকু দখল করে বসে আছে অনেক আগে থেকে। আমাদের মত বিজ্ঞান-প্রযুক্তির আবরনে মোড়া মানুষেরা লোহা-লক্কড় আর ইট-কাঠের মত ধীরে ধীরে নিষ্প্রাণ হয়ে গেছি, আমাদের চোখ দুটো এখন শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। আমরা স্বপ্নহীন মানুষেরা বেঁচে আছি প্রযুক্তির খাঁচায় বন্দী হয়ে। সে কারণেই অতীতের সহজ সরল জীবনের হাতছানি ব্যস্ত জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবায়, ঐতিহ্যকে ভালোবাসতে উদ্বুদ্ধ করে।

আমাদের Expert পরামর্শ নিন

একসময় ধনীবৃত্তের কিংবা প্রাচুর্যের প্রতিচ্ছায়া ছিলো বিয়েতে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার। বিয়ে বাড়িতে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার ছিলো রেওয়াজের মতো। আর এখন ঘোড়ার গাড়ির বদলে জাপানী গাড়ীর ব্যবহার বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। আপনি হয়ত জানেন না কোথায় পছন্দসই  ঘোড়া পাওয়া যায়? ভাড়া কত?যদি আপনি না বুঝতে পারেন আপনার কি ঘোড়া লাগবে,কিংবা কোনটা আপনার জন্য সঠিক, নিঃসকোচে আমাদের জানান। আমাদের অভিজ্ঞ প্রতিনিধি আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে সদা প্রস্তুত। আমাদের ফোন করুন-০১৬২৭-৩৫৫৩৮২/০১৬২৭-৩৫৫৩৮৩

নাগালের মধ্যে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

নিশানা, শাহী দরবার, রাজকন্যা, মধুমিতা, ডাকু-মনসুর, রাজদুলারী প্রভৃতি অনেক জনপ্রিয় ছবিতে ঘোড়ার ব্যবহার ৭০ এর দশকে ঘোড়ার গাড়িকে তুমুল জনপ্রিয় করেছিল। বিখ্যাত নায়ক দিলীপ কুমার, সুনীল দত্ত ও জিদানের মতো ফুটবল খেলোয়ার এবং নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস ঢাকার গাড়ির সোয়ারি হন। আপনিও যে কোন ছুটির দিনে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে প্রিয় শহর দেখতে পারেন। আমাদের রয়েছে ৪ হাজার বছরের ইতিহাস, রয়েছে স্বকীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি। এখনো বাংলা দক্ষিন এশীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং বাংলা সংস্কৃতির উৎসবগুলো পৃথিবীব্যাপি উদযাপিত হয়। 

আমরা আছি

২৪ ঘন্টা ৩৬৫ দিন

আমাদের ই-মেইল
info@bmsrental.com

 

আমাদের ফোন

০১৬২৭-৩৫৫-৩৮২/৩

error: Content is protected !!